you're reading...
Random Thoughts

প্রেরণা বনাম জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যঃ একটি অস্তিত্ববাদী ও মূল্যতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

সমসাময়িক সমাজে ব্যক্তিগত অগ্রগতি ও সাফল্য নিয়ে যে কথোপকথন গড়ে উঠেছে, তার কেন্দ্রে প্রায়শই একটি শব্দ ঘুরেফিরে আসে – মোটিভেশন বা প্রেরণা। মনে করা হয়, মানুষ ব্যর্থ হয় কারণ সে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত নয়; মানুষ থেমে যায় কারণ তার ইচ্ছাশক্তি দুর্বল। তাই তাকে উজ্জীবিত করতে হবে, উদ্দীপিত করতে হবে, তার ভেতরে আগুন জ্বালাতে হবে। কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মানুষের প্রকৃত সংকট প্রেরণার অভাব নয়; বরং সে তার কাজ, সংগ্রাম ও জীবনের সঙ্গে কোনো অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের সংযোগ খুঁজে পাচ্ছে না।

বর্তমান সময়ে আমরা প্রায়ই শুনি—মানুষের প্রধান সমস্যা হলো প্রেরণার অভাব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সেমিনার, বই, ভিডিও—সবখানেই একটি কথা ঘুরেফিরে আসে: নিজেকে মোটিভেট করো, আরও পরিশ্রম করো, নিজের সীমা অতিক্রম করো। কিন্তু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, মানুষের প্রকৃত সংকট প্রেরণার অভাব নয়; বরং জীবনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে অর্থের অনুপস্থিতি। মানুষ কাজ করতে চায় না—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়। মানুষ অর্থহীন কাজ করতে চায় না—এ কথাটি অনেক বেশি সত্য।

ব্যক্তিগত সাফল্য ও আত্মোন্নয়নকে কেন্দ্র করে যে ন্যারেটিভ বা বর্ননা নির্মিত হয়েছে, তাতে ব্যক্তিকে এক ধরনের যান্ত্রিক সত্তা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মানুষকে উদ্দীপনার মাধ্যমে সচল রাখার এই ধারণার অন্তর্নিহিত অনুমান হলো – মানুষের সমস্যা ইচ্ছাশক্তির ঘাটতি। কিন্তু দার্শনিকভাবে প্রশ্নটি আরও গভীর: মানুষের সংকট কি সত্যিই ইচ্ছাশক্তির অভাব, নাকি তার অস্তিত্বের ভেতরে কোনো অন্তর্লীন উদ্দেশ্যবোধের অনুপস্থিতি? আধুনিক মানুষ প্রায়শই কর্মব্যস্ত, উৎপাদনশীল, এমনকি সফলও; তবুও তার ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করে। এই শূন্যতা আচরণগত নয়, বরং অস্তিত্বগত। অর্থাৎ সমস্যা কাজের অভাব নয়; সমস্যা হলো কাজের সঙ্গে সত্তার কোনো গভীর সংযোগ না থাকা। এখানেই জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের প্রশ্ন উপস্থিত হয়।

ভিক্টর ফ্রাঙ্কল: কষ্টের মধ্যেও তাৎপর্যের সন্ধান

Viktor Frankl দেখিয়েছেন, মানুষ কেবল আনন্দ বা ক্ষমতার অনুসারী নয়; বরং সে এমন এক সত্তা, যে নিজের জীবনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য খুঁজতে চায়। নাৎসি বন্দিশিবিরে তার অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, যাদের জীবন কোনো গভীর তাৎপর্যের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল, তারাই প্রতিকূলতার মধ্যে মানসিকভাবে অধিক স্থিতিশীল ছিল। ফ্রাঙ্কলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কষ্ট নিজে বিধ্বংসী নয়; বিধ্বংসী হলো কষ্টের ব্যাখ্যার অনুপস্থিতি। যখন ব্যক্তি তার যন্ত্রণাকে একটি বৃহত্তর অস্তিত্বগত প্রেক্ষাপটে স্থাপন করতে পারে, তখন কষ্ট আত্মবিকাশের উপাদানে রূপান্তরিত হয়। এখানে প্রেরণা নয়, বরং জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্যই মানুষকে টিকিয়ে রাখে।

জঁ-পল সার্ত্র: তাৎপর্য নির্মাণের স্বাধীনতা

Jean-Paul Sartre বলেন, মানুষ প্রথমে অস্তিত্ব লাভ করে, নিজের সত্তাকে নির্মাণ করে পরে। এই বক্তব্যে স্পষ্ট যে জীবনের কোনো পূর্বনির্ধারিত ব্যাখ্যামূলক ভিত্তি নেই; মানুষই তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের জীবনের তাৎপর্য নির্মাণ করে। এখানে “অস্তিত্বগত তাৎপর্য” কোনো আবিষ্কৃত বস্তু নয়; এটি মানুষের নির্বাচনের ফল। ব্যক্তি যখন নিজের সিদ্ধান্তের দায় স্বীকার করে এবং সচেতনভাবে একটি মূল্যবোধ-নির্ভর অবস্থান গ্রহণ করে, তখন তার জীবন একটি সুসংহত ব্যাখ্যামূলক কাঠামো পায়। প্রেরণা মানুষকে কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে, কিন্তু নিজের পছন্দ এবং সিলেকশনের দায় গ্রহণের নৈতিক শক্তি জোগায় না। সেই শক্তি আসে অন্তর্লীন উদ্দেশ্যবোধ থেকে।

আলবেয়ার কাম্যু: অর্থহীনতার মাঝেও মর্যাদার অবস্থান

Albert Camus মানুষের অস্তিত্বকে “absurd” বলেছেন। তার বক্তব্যে বিশ্ব নির্লিপ্ত, অথচ মানুষ তাৎপর্য প্রত্যাশী। এই সংঘাত থেকেই অস্তিত্বগত অস্বস্তি জন্ম নেয়। কাম্যুর মতে, সমাধান হলো অর্থহীনতার অস্বীকার নয়, বরং সচেতন বিদ্রোহ। মানুষ যখন নিরর্থকতার মধ্যেও তার অবস্থান বজায় রাখে, তখন তার জীবন মর্যাদা লাভ করে। এখানে তাৎপর্য কোনো চূড়ান্ত সত্য নয়; এটি মানুষের অবস্থানগত সততা। অর্থাৎ জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনেক সময় কোনো পরম ব্যাখ্যা নয়; বরং একটি নৈতিক ভঙ্গি – যার মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বকে গ্রহণ করে।

ফ্রিডরিখ নীটশে: মূল্যবোধের পুনর্নির্মাণ

অন্যদিকে Friedrich Nietzsche মনে করেন, ঐতিহ্যগত নৈতিক ভিত্তি ভেঙে গেলে মানুষ অস্তিত্বগত শূন্যতায় পতিত হয়। এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন নতুন মূল্যবোধ সৃষ্টি করা। তার মতে, মানুষের শক্তি নিহিত রয়েছে নিজের জীবনের জন্য একটি গভীর “কেন” নির্মাণে। এই “কেন”ই তাকে যেকোনো “কীভাবে” সহ্য করার ক্ষমতা দেয়। এখানে জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য কোনো বাহ্যিক বিধান নয়; এটি সৃষ্টিশীল আত্মনির্মাণের ফল।

প্রেরণা মূলত আবেগনির্ভর একটি শক্তি, যা আচরণকে সাময়িকভাবে ত্বরান্বিত করে। এটি বাহ্যিক উদ্দীপনা দ্বারা সঞ্চালিত হয়, যেমন কোনো বক্তৃতা, কোনো অনুপ্রেরণামূলক গল্প, কোনো সফল ব্যক্তির জীবনকাহিনি। এই উদ্দীপনা সাময়িকভাবে মানুষকে সক্রিয় করে তোলে, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব ক্ষীণ হয়ে যায়। কারণ প্রেরণা স্থায়ী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; এটি পরিস্থিতিনির্ভর। এটি তার অস্তিত্বের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। ব্যক্তি কাজ করে, সাফল্য অর্জন করে, কিন্তু একসময় অনুভব করে—তার জীবনের ভেতরে কোনো মৌলিক সংযোগ অনুপস্থিত। এই বিচ্ছিন্নতার অভিজ্ঞতাই আধুনিক মানুষের অস্তিত্বগত উদ্বেগের উৎস।

অন্যদিকে জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ব্যক্তির গভীর মূল্যবোধ, বিশ্বাস, চেতনা ও আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত। এটি বাহ্যিক প্রভাব নয়, অভ্যন্তরীণ উপলব্ধির ফল। মানুষের প্রধান চালিকাশক্তি আনন্দ বা ক্ষমতা নয়; বরং জীবনের অর্থ বা তাৎপর্য অনুসন্ধান। যখন ব্যক্তি তার কষ্টের ভেতরেও কোনো অর্থবহ কিছু আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়, তখন সে মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু অর্থহীন কষ্ট মানুষকে দূর্বল করে দেয়। এখানেই প্রেরণা ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়। প্রেরণা কষ্টকে অস্বীকার করতে চায়; তাৎপর্য কষ্টকে অর্থবহ করে তোলে।

আধুনিক পুঁজিবাদী সংস্কৃতি সাফল্যকে পরিমাপযোগ্য সূচকে সীমাবদ্ধ করেছে – আয়, পদ, প্রভাব, অনুসারী সংখ্যা। ফলে ব্যক্তি নিজের সত্তাকে বহিরাগত মানদণ্ডে মূল্যায়ন করতে শেখে। এই প্রক্রিয়ায় তার অভ্যন্তরীণ মূল্যবোধ ও বিশ্বাস ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যক্তি বাহ্যিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, এবং প্রেরণার বাজার ক্রমশ বিস্তৃত হয়। কিন্তু বাহ্যিক স্বীকৃতি অস্তিত্বগত শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। কারণ তাৎপর্য কোনো বাহ্যিক বস্তু নয়; এটি আত্ম-অন্বেষণের ফল।

আমি যা করছি, তা কেন করছি এবং এর ভেতরে আমার সত্তার কী প্রতিফলন ঘটছে – এগুলোই মানুষকে আলাদা করে তোলে। কোনো কাজ কেবল অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বা সামাজিক স্বীকৃতির জন্য নয়, বরং বৃহত্তর কোনো মূল্যবোধের অংশ হিসেবে সম্পাদিত হলে তা অর্থবহ হয়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, একজন চিকিৎসক যদি কেবল পেশাগত সাফল্যের জন্য কাজ করেন, তবে ক্লান্তি দ্রুত এসে যাবে; কিন্তু যদি তিনি তার কাজকে মানবসেবার একটি দায় হিসেবে অনুভব করেন, তবে সেই দায়িত্ব তার ভেতরে স্থিতিশীল শক্তি জোগাবে। এখানেই প্রেরণা ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্যের মৌলিক পার্থক্য নিহিত।

দার্শনিকভাবে বলতে গেলে, অন্তর্নিহিত তাৎপর্য একটি নৈতিক অবস্থানও বটে। ব্যক্তি যখন নিজের কাজকে কেবল উপযোগিতার মানদণ্ডে নয়, বরং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের আলোকে মূল্যায়ন করে, তখন তার কর্মকাণ্ডের ভেতরে একটি গভীরতা জন্ম নেয়। এই গভীরতাই তাকে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতি প্রদান করে। সেখানে শৃঙ্খলা কোনো আরোপিত বিধান নয়; বরং আত্মনির্মাণের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

অস্তিত্ববাদ আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশ করে – অর্থ বা তাৎপর্য পূর্বনির্ধারিত নয়, বরং মানুষের নিজস্ব চিন্তা এবং বিষয় নির্বাচনের উপর নির্ভর করে। মানুষ তার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজের জীবনের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করে। এই নির্বাচন প্রক্রিয়াই তাকে স্বাধীন করে, কিন্তু একই সঙ্গে দায়িত্বশীল করে তোলে। প্রেরণা মানুষকে সাময়িকভাবে কর্মপ্রবণ করে তুলতে পারে, কিন্তু তা তাকে নিজের নির্বাচনের দায় গ্রহণে সক্ষম করে না। অন্তর্নিহিত তাৎপর্যই তাকে তার নির্বাচনের নৈতিক ভার বহনে সহায়তা করে।

সাম্প্রতিক সময়ে জীবনের একটি বড় বৈপরীত্য হলো – অনেকে বাহ্যিকভাবে সফল হলেও ভেতরে শূন্যতা অনুভব করেন। তারা লক্ষ্য পূরণ করেন, কিন্তু তৃপ্ত হন না। এর কারণ, লক্ষ্য পূরণ ও জীবনের তাৎপর্য উপলব্ধি এক বিষয় নয়। লক্ষ্য হতে পারে সামাজিকভাবে নির্ধারিত; কিন্তু তাৎপর্য ব্যক্তিগতভাবে নির্মিত। যখন ব্যক্তি নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো লক্ষ্য অনুসরণ করেন, তখন সাফল্য অর্জনের পরও এক ধরনের অস্বস্তি থেকে যায়। কারণ তার অর্জনের ভেতরে আত্ম-সংলাপের সঙ্গতি থাকে না।

অন্তর্নিহিত তাৎপর্য মানুষকে দীর্ঘস্থায়ী শৃঙ্খলা প্রদান করে। যে ব্যক্তি তার কাজকে নিজের পরিচয়ের অংশ হিসেবে দেখেন, তার জন্য নিয়মিত পরিশ্রম আলাদা কোনো চাপ নয়। বরং তা হয়ে ওঠে স্বাভাবিক অভ্যাস। একজন শিল্পী, গবেষক কিংবা শিক্ষক দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, কারণ তাদের কাজের ভেতরে আত্ম-প্রকাশের একটি গভীর তাৎপর্য থাকে। সেখানে প্রতিদিন নতুন করে প্রেরণা খোঁজার প্রয়োজন পড়ে না।

এই তাৎপর্য খুঁজে পাওয়া একটি আত্ম-অনুসন্ধানী প্রক্রিয়া। ব্যক্তি যখন নিজেকে প্রশ্ন করেন – আমার কাজ কি আমার বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এই প্রয়াস কি আমার সত্তাকে বিকশিত করছে? আমি কি কেবল বাহ্যিক স্বীকৃতির জন্য কাজ করছি, নাকি কোনো অন্তর্গত দায়বোধ থেকে? তখন ধীরে ধীরে তার কর্মকাণ্ডের ভেতরে একটি গভীর তাৎপর্য নির্মিত হয়। এই নির্মাণ প্রক্রিয়াই তাকে স্থিতিশীল করে, আত্মবিশ্বাসী করে এবং দীর্ঘমেয়াদি পথে অবিচল রাখে।

মানুষের অগ্রগতির জন্য সাময়িক প্রেরণার চেয়ে অধিক প্রয়োজন জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অনুধাবন করা। প্রেরণা মানুষকে শুরু করতে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু অন্তর্নিহিত তাৎপর্যই তাকে পথের শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখে। যে ব্যক্তি তার কাজের সঙ্গে নিজের সত্তার সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে, তার কাছে পরিশ্রম আর কেবল দায়িত্ব নয়, তা হয়ে ওঠে আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। সেই অবস্থায় প্রেরণা আর বাহ্যিক উৎস থেকে ধার নিতে হয় না; তা জীবনের গভীর উপলব্ধি থেকেই জন্ম নেয়।

আমি ব্যক্তগতভাবে বিশ্বাস করি যে, মানুষের প্রয়োজন প্রেরণার চেয়ে অধিকতর গভীর কিছু। এমন কিছু যা তার অস্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। যখন ব্যক্তি তার কাজ, সম্পর্ক ও সংগ্রামের ভেতরে এই তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারে, তখন তার জীবনের গতি বাহ্যিক প্রণোদনার ওপর নির্ভর করে না। সে নিজের নির্মিত মূল্যবোধের ভিত্তিতে অগ্রসর হয়। তার কর্ম তখন আর কেবল সাফল্যের অন্বেষণ নয়; বরং আত্ম-সাক্ষাতের প্রক্রিয়া।

উপসংহারে বলতে চাই যে, মানুষের প্রকৃত সংকট আচরণগত নয়; বরং অস্তিত্বগত। অন্যভাবে বললে –আচরণের জড়তা নয়; বরং সত্তার বিচ্ছিন্নতা। সেই বিচ্ছিন্নতা দূর করার একমাত্র উপায় হলো নিজের জীবনের গভীরে প্রবেশ করে এমন একটি তাৎপর্য নির্মাণ করা, যা ব্যক্তি ও তার কর্মের মধ্যে মৌলিক ঐক্য স্থাপন করে। প্রেরণা আচরণকে উদ্দীপিত করে কিন্তু জীবনের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য অস্তিত্বকে ব্যাখ্যা করে। প্রেরণা সাময়িক শক্তি দেয় কিন্তু অন্তর্লীন উদ্দেশ্যবোধ দীর্ঘস্থায়ী স্থিতি প্রদান করে। অস্তিত্বের সঙ্গে কর্মের যখন গভীর সংযোগ স্থাপিত হয়, তখন শৃঙ্খলা আর আরোপিত বিধান থাকে না; বরং তা আত্ম-নির্মাণের স্বাভাবিক পরিণতি হয়ে ওঠে।

Unknown's avatar

About Md. Moulude Hossain

FinTech | Digital Payment | Product Strategy | Product Management | EMV | Business Development

Discussion

No comments yet.

Leave a comment

upay-GP Offers

Blog Stats

  • 120,267 hits

Archives

upay bonus

Recent Post